সরকার সমালোচনায় ফেসবুক পোস্ট, দ্রুত বিচার আইনে মামলা

তমাল হোসেন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া মামলায় টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ছাত্রলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন আল মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। জানা যায়, সরকার পটপরিবর্তনের পর ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যায় শাহিন।

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়া বাড়ি ইউনিয়নের কুর্শাবেনু গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আল মামুন মোঃ সোনা মন্ডলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে “আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) সংশোধনী আইন ২০১৯” ও দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/১০৯/১৪৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাচাসড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবির হোসেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহিন আল মামুন এলাকায় ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিলেন। তার নেতৃত্বে এলাকার ছাত্রলীগ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এর জের ধরেই গত বছর তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে এলাকাবাসী জানায়। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীনে নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও অভিযোগ উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী।

শাহিন আল মামুনের এক নিকট আত্মীয় ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, “স্বাধীন দেশে মত প্রকাশের অধিকার থাকা সত্ত্বেও ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করায় শাহিন মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আমাদের পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। ফলে গত সাত-আট মাস ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।”

পরিবারের দাবি, দেশে ফিরে আসলে শাহিন আল মামুনের জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য:
টাঙ্গাইল কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নিয়মিত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শাহিন আল মামুন দেশের বাইরে অবস্থান করায় গ্রেফতারের জন্য বিশেষ সহায়তা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আমরা নিশ্চিত হতে চাই মামলার সকল প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নয়, অভিযোগের যথার্থতার ভিত্তিতেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

মামলাটি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল আইনজীবী সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেটি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আইনসম্মত। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”

এমজে/সিটিজিনিউজ

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img