বরুড়ায় বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের বাবার ওপর ফের বর্বর হামলা: চাঁদাবাজি ও বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ী ইউনিয়নের ফলকামুড়ী গ্রামে লন্ডন প্রবাসী ছাত্রনেতা ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের বাবা হাফেজ আহাম্মদের ওপর ফের বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে একদল লোক ফলকামুড়ী গ্রামের ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ইকবাল হোসেনকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে হামলাকারীরা হাফেজ আহাম্মদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় হাফেজ আহাম্মদ, তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালায় এবং ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা সমপরিমাণ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের, তার ছোট ভাই মোহন মিয়া, মো. আমির হোসেন এবং তাদের ভাতিজা আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি সদস্য মো. মিজানসহ একাধিক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামবাসীর দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। আগেও একাধিকবার এই বাড়িতে হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।

হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জমি-জমা ও বসতভিটা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হাজী রুহুল আমিন মাস্টার বলেন, “আমরা বারবার চেষ্টা করেছি এই বিরোধ মীমাংসা করতে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এতটাই গভীর যে সমাধান করা যায়নি।”

এলাকাবাসীর মতে, এই পরিবারে কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, কেউ বিএনপির সঙ্গে। ফলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, পরিবারটি হয়রানির শিকার হয়ে আসছে।

হাফেজ আহাম্মদ বলেন, “২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়। মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি।”

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ছেলে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রায় ১০ বছর ধরে ছেলে দেশে ফিরতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফিরলে মেরে ফেলারও ভয় দেখানো হচ্ছে।”

গ্রামবাসী জানায়, কিছুদিন আগে দুবৃত্তরা হাফেজ আহাম্মদের একাধিক গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায়ও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা মনে করেন, পরিবারটি রাজনৈতিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে বহু বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, এর আগের হামলার পর মামলা করতে গেলে বরুড়া থানা মামলা নেয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঘটনার পর গ্রামজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img