দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের গুলি, আহত ১৩

চর দখলকে কেন্দ্র করে বরিশাল ও ভোলার দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গ্রামবাসীর হামলায় ৩/৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে মেহেন্দীগঞ্জের মহিষমারা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় ভোলার চরচটকিমারা গ্রামের মানুষ। এই নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। সেটি থামাতে গিয়ে গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- নান্নু হাওলাদার, রিপন হাওলাদার, আলী হোসেন, রিয়াজ, সাইফুল, শাহজাহান, হানিফ হাওলাদার, জামাল রাঢ়ী, চানবরু, সাথী, আমেনা বেগম, ফিরোজা বেগম ও আছমা বেগম। তারা সবাই মেহেন্দীগঞ্জের মহিষমারা গ্রামের।

মেহেন্দীগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের সদস্য পলাশ জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহিষমাড়ি ও চরচটকিমারা গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রায়শই চরচটকিমারা গ্রামবাসী মহিষমারার চর দখলে হামলা চালায়।

অভিযোগ উঠেছে, বেলা ১১টার দিকে চরচটকিমারা গ্রামবাসী মহিষরারা গ্রামের মানুষের ওপর হামলা চালায়। হামলা প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ এসে গুলি ছোড়ে। এতে মহিষমারা গ্রামের পুরুষ ও নারীসহ ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে গ্রামবাসী ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ জানান, শ্রীপুরের মহিষমারা ও ভোলার চরচটকিমারা গ্রাম দুটি সীমান্তবর্তী এলাকায়। এ কারণে ওই দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। বিষয়টি মীমাংসা করে সীমানা নির্ধারণ করে দিলেও বিরোধ মেটেনি। এ কারণে বরিশাল ও ভোলা পুলিশের সমন্বয়ে সেখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। কিন্তু তাদের দ্বন্দ্ব বন্ধ হয়নি।

তিনি আরও জানান, আজ দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে ক্যাম্প পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে মহিষমারা গ্রামের কিছু লোক আহত হয়। তাদের বরিশাল মেডিক্যালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় চার পুলিশ আহত হয়েছেন।

মেহেন্দীগঞ্জ থানার পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মহিষমারা গ্রামবাসীর সঙ্গে চরচটকিমারা গ্রামবাসীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলাও চলছে। বিবদমান ওই চরে চরচটকিমারা গ্রামের লোকজন গরু চরায়। এতে বাধা দেয় মহিষমারা গ্রামবাসী। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ উভয় গ্রামবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু চরচটকিমারা গ্রামবাসী পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৩/৪ জন পুলিশ আহত হয়। আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালিয়েছে। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কবির হোসেন বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‍এর মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর।’

ইউআর/

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img