আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব আবারও উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্বের ১২ জন উদ্যোক্তা পরিচালক এবং দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালককে নিয়ে ১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
তবে নতুন এই পর্ষদে এমন এক ব্যবসায়ী গ্রুপের শীর্ষ প্রতিনিধিদের পুনর্বাসন নিয়ে ব্যাংক খাতে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই কানাডায় শতকোটি টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।
নতুন পর্ষদে আছেন যারা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন পরিচালনা পর্ষদে কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ এবং কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্থান পেয়েছেন।
এ ছাড়া পর্ষদে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন— ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, এনায়েত উল্লাহ, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।
নেপথ্যে শতকোটি টাকা পাচারের সেই অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে কেডিএস গ্রুপের দুই শীর্ষ পরিচালক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কানাডায় শতকোটি টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রহমান এবং তাঁর ভগ্নিপতি ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম শামীম ইকবাল।
অভিযোগ রয়েছে, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলনের মাধ্যমে এই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অর্থ পাচারের এমন গুরুতর অভিযোগের ‘তিলক’ মাথায় নিয়েই কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধিরা আবারও ব্যাংকটির নীতি-নির্ধারণী দায়িত্বে ফিরে এলেন।


