ফোর্বসের তালিকা – ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা আয় করে শীর্ষে রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক : মাঝের এ সময়ে তিনি স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ইতালির জুভেন্টাস, সেখান থেকে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে সৌদি আরবের আল নাসেরে নাম লিখিয়েছেন। এ সময় হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিলেও সিংহাসনটা তারই দখলে থাকছে। টানা চতুর্থবার ফোর্বসের শীর্ষ আয়কারী হলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে জিতেছিল টানা দুবার। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ফোর্বসের ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার, সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডধারী রোনালদো ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়কর, এজেন্ট ফি এবং অন্যান্য খাতে কর্তনের আগে গত এক বছরে আনুমানিক ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা) আয় করেছেন। তার আয়ের সিংহভাগই এসেছে আল নাসর থেকে। ক্লাবটিতে তার বর্তমান চুক্তি থেকে এসেছে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি ডলার। বাকি সাড়ে ৬ কোটি ডলার এসেছে বিভিন্ন পণ্যের প্রচার ও মাঠের বাইরের ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এ মৌসুমে আল নাসরের হয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছেন রোনালদো। এ শিরোপা জয়ে তার রয়েছে বড় অবদান। শিরোপা জয়ের ম্যাচে করেছেন দুটি গোল। সব মিলিয়ে এবারের লিগে ৩০ ম্যাচে গোল করেছেন ২৮টি, যা আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ফোর্বসের তালিকায় রোনালদো ছয়বার সেরা হলেও সর্বোচ্চ ১১ বার আয়ের তালিকায় শীর্ষে থেকে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে মার্কিন গলফার টাইগার উডস। ছয়বার সেরা হয়ে বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানকে স্পর্শ করলেন রোনালদো।

১৭ কোটি ডলার আয় করে দুইয়ে আছেন বক্সার ক্যানেলো আলভারেজ। মেক্সিকোর ৩৫ বছর বয়সী বক্সার রিং থেকে ১৬ কোটি ডলার ও স্পনসরশিপসহ অন্যান্য কার্যক্রম থেকে বাকি ১ কোটি ডলার আয় করেন।

১৪ কোটি ডলার আয় করে তালিকার তিনে আছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত পুরস্কার কিংবা আয়ের রেসে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ মেসি এখন খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে। ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি থেকে তার আয় ৭ কোটি ডলার। পাশাপাশি অ্যাডিডাস, অ্যাপল টিভি, মাস্টারকার্ড ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্টের মাধ্যমে মাঠের বাইরে আরো ৭ কোটি ডলার আয় করেন তিনি।

তালিকার চারে আছেন এনবিএ লিগে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের সুপারস্টার লেব্রন জেমস। ৪১ বছর বয়সী লেব্রন জেমস তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও কোর্টের বাইরের আয় ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছেন। ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং নাইকি, ড্রাফটকিংস, রিচার্ড মিল ও অন্যদের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে তিনি কোর্টের বাইরে থেকে কোর্টের চেয়ে প্রায় ৩ কোটি ডলার বেশি আয় করেন। তার মোট আয় ১৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। কোর্টের বাইরে থেকে আয় ৮ কোটি ডলার।

পাঁচ নম্বরে আছেন বেসবল তারকা শোয়েই ওতানি। লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের জাপানি সুপারস্টারের আয় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ডজার্সের সঙ্গে তার ১০ বছরের চুক্তি ৭০ কোটি ডলারের। গত ১২ মাসে ক্লাবটি থেকে তিনি পারিশ্রমিক পেয়েছেন মাত্র ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তার আয়ের বাকি অংশ মাঠের বাইরে থেকে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে অন্তত ২০টি এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি আছে তার।

তালিকায় এরপর আছেন আমেরিকান বাস্কেটবল সুপারস্টার স্টিফেন কারি (১২ কোটি ৪৭ লাখ), স্প্যানিশ গলফার জন রাম (১০ কোটি ৭ লাখ), ফরাসি ফুটবলার করিম বেনজেমা (১০ কোটি ৪ লাখ), আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়াড় কেভিন ডুরান্ট (১০ কোটি ৩৮ লাখ) ও ব্রিটিশ অটো রেসিং সুপারস্টার লুইস হ্যামিল্টন (১০ কোটি)।

এ বছর তালিকায় ১৮টি দেশ ও আটটি খেলার ক্রীড়াবিদরা রয়েছেন। বাস্কেটবল থেকেই আছেন ২০ জন। যদিও শীর্ষ ৫০-এ স্থান পাননি কোনো নারী। আরিনা সাবালেঙ্কা, কোকো গাফরা বছরজুড়ে টেনিস দাপিয়ে বেড়ান, তেমনি নারী এনবিএ লিগেও উচ্চ পারিশ্রমিক রয়েছে। তবু ফোর্বসের তালিকায় শীর্ষ ৫০-এ কোনো নারী নেই।

সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ৫০ জন ক্রীড়াবিদের সম্মিলিত আয় সব মিলিয়ে ৪২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৩০০ কোটি মাঠ থেকে এবং বাকি ১২০ কোটি ডলার মাঠের বাইরে থেকে এসেছে। ২০১৮ সালে শীর্ষ ৫০ জনের আয় ছিল ২৬০ কোটি ডলার। ফোর্বস

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img