রাজপথে কর্মীদের রেখেই মালয়েশিয়ায় জামায়াতের ৩৪ এমপি সস্ত্রীক ভ্রমণ সফর ঘিরে প্রশ্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ আট দফা দাবিতে নেতাকর্মীদের লংমার্চ। ঢাকা থেকে রংপুরের পথে ছুটছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা।

ঠিক সেই সময়েই সামনে এলো ভিন্ন এক চিত্র – জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের মালয়েশিয়া সফর।
একজন-দুজন নন, দলের ৩৪ জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে বিদেশ সফর। সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের স্ত্রীদেরও বড় একটি অংশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে নানা প্রশ্ন – যে সময়ে কর্মীরা রাজপথে, সেই সময়ে দলের এতজন সংসদ সদস্য দেশের বাইরে কেন?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্ত্রীদের বড় একটি বহর। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তালিকায় নাম না থাকলেও নির্বাচনের আগে জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানও রয়েছেন মালেশিয়ায়।

এত বড় একটি রাজনৈতিক বহরের একই সময়ে বিদেশে অবস্থান এবং দেশে চলমান লংমার্চ – দুটি ঘটনা পাশাপাশি আসায় তৈরি হয়েছে আলোচনার নতুন মাত্রা।

কারণ একদিকে মাঠে কর্মীদের দীর্ঘ পথের কর্মসূচি, অন্যদিকে দলের জনপ্রতিনিধিদের বিদেশ সফর।
প্রশ্নটা তাই শুধু সফর নিয়ে নয় – প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়েও।

রাজপথে জামায়াতের কর্মীদের লংমার্চ

কর্মীদের সামনে রেখে যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, সেই সংকটের সময় দলের সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ দেশের বাইরে থাকলে তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা কী – এ নিয়েই এখন আলোচনা।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও এতো বিপুল সংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে উপস্থিতি কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকারীদের সঙ্গে সেখানে সংস্কার, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সময়টা।
যে সময়ে রাজপথে কর্মীরা সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ করছেন, সেই সময়েই ৩৪ সংসদ সদস্যের মালয়েশিয়া সফর – এই দৃশ্যপটই তৈরি করেছে রাজনৈতিক প্রশ্ন।

কারা রয়েছেন সফরে?
প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, সফরকারীদের মধ্যে রয়েছেন – রংপুর-৬-এর মো. নুরুল আমিন, ঢাকা-৫-এর মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, খুলনা-২-এর এস কে জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, বাগেরহাট-২-এর শেখ মঞ্জুরুল হক রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর মো. মাসুদ পারভেজ, নওগাঁ-২-এর মো. এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২-এর মো. রুহুল আমিন, গাজীপুর-৪-এর সালাহউদ্দিন, কুড়িগ্রাম-৪-এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নড়াইল-২-এর মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-৪-এর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ময়মনসিংহ-৬-এর মো. কামরুল হাসান, নীলফামারী-৪-এর আবদুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-১-এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫-এর মো. আবদুল ওয়ারেস, গাইবান্ধা-১-এর মো. মাজেদুর রহমান, নীলফামারী-২-এর আলফারুক আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৬-এর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান, নীলফামারী-১-এর মো. আবদুল সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২-এর মো. মিজানুর রহমান, পাবনা-৩-এর মোহাম্মদ আলী আসগর, পাবনা-৪-এর মো. আবু তালেব মণ্ডল, রংপুর-১-এর মো. রায়হান শিরাজী, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নেত্রকোনা-৫-এর মাসুম মোস্তফা, মেহেরপুর-১-এর মো. তাজউদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-৪-এর মো. আফজাল হোসাইন, গাইবান্ধা-২-এর মো. আবদুল করিম, ঢাকা-১৪-এর মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং যশোর-৫-এর গাজী এনামুল হক।
সংসদ সদস্যদের বাইরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ফলে পুরুষ সফরকারীর তালিকায় মোট ৩৫ জন – ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও একজন দলীয় নেতা। তাঁদের স্ত্রীদেরও সফরসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img