প্রায় সোয়া এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু করতে চায় মিয়ানমার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে দুদেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে বাণিজ্য শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। বৈঠকে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো, পণ্য আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণ, নৌপরিবহণ যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।
চলমান সংঘাতের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কার্যত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছালেও স্বাভাবিক বাণিজ্য আর চালু হয়নি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আসছে না। সীমিত পরিসরে রাখাইন রাজ্য থেকে কাঠ আমদানি হচ্ছে এবং বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ কিছু ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্য এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহণ, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন।


