বন্ধ করে দেওয়া হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া বলে জানিয়েছে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার (২৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

এর আগে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় দলটির। অনলাইন আন্দোলনের দমনের এমন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনজীবীদের ‘সিনিয়র’ মর্যাদা প্রদানসংক্রান্ত একটি আদালত শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্তের করা মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত সপ্তাহে সিজেপি প্ল্যাটফর্মটি সামনে আসে।

মন্তব্যে বিচারপতি তরুণদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেন। পরে সিজেআই বলেন, তার মন্তব্য বিকৃতভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রি’ নিয়ে আইন পেশায় প্রবেশকারীদের লক্ষ্য করে এই মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পরে বিচারপতির মন্তব্যটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হয়।
পরে সেটি তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল ভিন্নমত ও ক্রমবর্ধমান হতাশার এক বৃহত্তর আলোচনায় পরিণত হয়। মিম ও রাজনৈতিক ভাষ্যের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার মতো গুরুতপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দীপকে বলেন, আন্দোলনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দলটির ‘প্রতীকী ওয়েবসাইট’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও দলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট উভয়ই ‘হ্যাক’ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১০ লাখ ককরোচ সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থার কথিত ব্যর্থতা, বিশেষ করে নিট ইউজি ২০২৬-এর ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’ বিতর্কের কারণে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একটি আবেদনে ৬ লাখ ককরোচ স্বাক্ষর করেছে।

বন্ধ হওয়ার আগে মাত্র কয়েকদিনে দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রায় ২০ মিলিয়ন ফলোয়ার ছাড়িয়ে যায়, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি ছিল।

সমালোচকদের দাবি, সিজেপি মূলত বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অনলাইন প্রচারণা। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে সিজেপি অনেক তরুণ ভারতীয়ের হতাশা ও অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, তারা প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে রাজনীতি দেখলেও নিজেদের মতামত বা স্বার্থের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান না।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ

- Advertisement -spot_img

এই বিভাগের আরও

- Advertisement -spot_img